গোফরান পলাশ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):
এক পা হারিয়েও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি ইসমাইল তালুকদার। কারো ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ভাড়ায় ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। তবে একটি কৃত্রিম পা পেলে তার চলাফেরা ও জীবনযাপন আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একটি কৃত্রিম পায়ের অপেক্ষায় দিন গুনছেন প্রতিবন্ধী ইসমাইল।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের জালাল তালুকদারের ছেলে ইসমাইল তালুকদার (২৬)। একসময় ট্রাক চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। প্রায় সাত বছর আগে সড়কের পাশে ট্রাক সরানোর সংকেত দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। সে সময় ট্রাকের একটি চাকা তার ডান পায়ের ওপর উঠে গেলে গুরুতর আহত হন ইসমাইল। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পা কেটে ফেলতে হয়।
দীর্ঘ চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে তার পরিবার। এর মধ্যেই তিন বছর আগে তার স্ত্রী বাড়ির টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যান। একের পর এক প্রতিকূলতা এলেও মনোবল হারাননি ইসমাইল। এক পায়ে ভর দিয়ে ভাড়ায় ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। তবে পা না থাকায় প্রতিদিনই তাকে চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
ইটবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা জসি আকন বলেন, ইসমাইলকে দেখে খুব খারাপ লাগে। এক পায়ে ভর দিয়ে অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে সে। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারের কাছে অনুরোধ, তাকে একটি কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।
প্রতিবন্ধী ইসমাইল তালুকদার বলেন, প্রায় সাত বছর আগে চালককে সিগনাল দিয়ে ট্রাকটি পাশে সরাতে বলার সময় ভুলবশত ট্রাকের একটি চাকা তার পায়ের ওপর উঠে যায়। পরে কলাপাড়া, পটুয়াখালী ও ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। চিকিৎসা করতে গিয়ে তিনি দায়দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য অটো চালানোর পেশা বেছে নিয়েছেন। তার কৃত্রিম পা কেনার মতো সামর্থ্য নেই। সরকার বা কোনো বিত্তবান ব্যক্তি একটি কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করে দিলে তার চলাফেরা ও জীবিকা নির্বাহ সহজ হবে বলে জানান তিনি।
কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ইসমাইল প্রতিবন্ধী ভাতার আওতাভুক্ত। তার কৃত্রিম পায়ের সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
#