
স্টাফ রিপোর্টার: পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন নিঃস্বজন বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতে পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী ইফতার ও নৈশভোজ আয়োজন। ভালোবাসা, আন্তরিকতা আর মানবিকতায় ভরপুর এই আয়োজনে যেন ফিরে এলো হারিয়ে যাওয়া আপনজনের অনুভূতি।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরাম ও পটুয়াখালী পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে সমাজের অবহেলিত ও স্বজনবিচ্ছিন্ন বয়োজ্যেষ্ঠদের নিয়ে পটুয়াখালীর দক্ষিণ বঙ্গ বৃদ্ধাশ্রমে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই মানবিক ও ব্যতিক্রমধর্মী ইফতার ও নৈশভোজ কর্মসূচি। এতে অংশ নেন আশ্রমে বসবাসরত প্রবীণ, তরুণ স্বেচ্ছাসেবী ও পৌর প্রশাসকসহ অন্যান্যরা।
ইফতারের আগে আয়োজনস্থলে ছিল ভিন্নধর্মী এক আবহ। অতিথিরা বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় মেতে ওঠেন, খোঁজখবর নেন তাদের জীবনের নানা দিক নিয়ে। দীর্ঘদিনের নিঃসঙ্গতা যেন কিছুক্ষণের জন্য হলেও দূর হয়ে যায়। তাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ ও প্রশান্তির ছাপ।
ইফতারের সময় সবাই একই সারিতে বসে একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করেন। এতে তৈরি হয় এক অনন্য মানবিক বন্ধন, যেখানে অতিথি ও উপকারভোগীর মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকেনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক জনাব জুয়েল রানা, পৌর সচিব মাসুম বিল্লাহ, পৌরসভার প্রকৌশলী এইচ এম সোলায়মান, বেসরকারি সংস্থা পাশা ও বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রিফাতসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
ইফতার শেষে বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালকের উদ্যোগে বাসিন্দাদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে নতুন কাপড় বিতরণ করা হয়।
পরবর্তীতে রাতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং সেহরিতেও বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলো পুরো আয়োজনজুড়ে। ভালোবাসা আর যত্নে গড়ে ওঠা এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা এবং মানবিক মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করে তোলে বলেও মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা।
এসময় প্রশাসক জুয়েল রানা বলেন “আমরা শুধু ইফতার বা উৎসবের জন্য নয়, বরং আশ্রমের জীবনমান উন্নত করার জন্যও বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। খাদ্য, চিকিৎসা, স্যানিটেশন এবং স্বাচ্ছন্দ্যের সুযোগ বৃদ্ধি করা আমরা ইতিমধ্যে কিছু কাজ করেছি। স্বেচ্ছাসেবক ও সংগঠনগুলোর সহায়তায় এই উদ্যোগগুলো আরও বিস্তৃত করা হবে।”


