
মো. বেল্লাল হোসেন,দশমিনা প্রতিনিধি ॥
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী–৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেছেন, “বহিষ্কার–পাল্টা বহিষ্কারের এসব নাটক বাদ দিয়ে সরাসরি বিএনপিতে যোগ দেওয়াই শ্রেয়। যদি কোনো আইনি জটিলতা না থাকে, নির্বাচন কমিশন ধানের শীষ প্রতীক দিলেও আমার কোনো আপত্তি নেই। জাতি এখন তামাশা থেকে মুক্তি চায়।”
শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী–৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের সমঝোতার ভিত্তিতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরকে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। একই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য থেকে সদ্য বহিস্কৃত হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
মনোনয়ন দাখিলের পর গত ৩০ ডিসেম্বর দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাসান মামুনকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই দশমিনা–গলাচিপা আসনের তৃণমূল বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ ৪৭ বছরেও পটুয়াখালী–৩ আসনে বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়নি। তারা দাবি করেন, বিগত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে হাসান মামুনের নেতৃত্বেই তারা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। তাদের মতে, প্রতীক যাই হোক না কেন, হাসান মামুন একজন বিএনপির মানুষ তাকে ভোট দিয়েই বিজয়ী করা হবে।
তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি করার কারণে তারা হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার পর ধানের শীষ প্রতীকের বাইরে অন্য কোনো প্রতীকে ভোট দেওয়া তাদের জন্য মানসিকভাবে কঠিন।
এ পরিস্থিতিতে হাসান মামুনের বক্তব্য ও অবস্থান পটুয়াখালী–৩ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


