
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) কেয়ারটেকিং সেকশনের প্রধান ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা মো. সাইফুল্লাহ এবং তার স্ত্রী গ্রন্থাগার শাখার কর্মচারী লিমা আক্তারের নিয়োগ ও পদোন্নয়ন প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন—লিমা আক্তারের নিয়োগ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাম্প্রতিক পর্যায়োন্নয়ন স্বচ্ছতার প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি তাকে জুনিয়র সহকারী থেকে সিনিয়র সহকারী পদে উন্নীত করার প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে আসায় এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
প্রাপ্ত নথিপত্রে দেখা যায়, লিমা আক্তার এসএসসি পাস করেন ২০০৫ সালে, এইচএসসি ২০০৭ সালে, স্নাতক ২০১২ সালে এবং একই বছর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বছরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
২০১৮ সালের ৮ জুলাই তিনি পবিপ্রবিতে জুনিয়র সহকারী পদে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন রাজনৈতিক সুপারিশ এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই ওই নিয়োগ সম্পন্ন হয়। একইসঙ্গে তার স্বামী মো. সাইফুল্লাহও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে চাকরিতে অগ্রগতি পান বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শাখার এক সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একই বছর অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার বিষয়টি একাডেমিকভাবে যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া নিয়োগের পর স্বল্প সময়ের মধ্যে সিনিয়র সহকারী পদে উন্নীত হওয়ার বিষয়টিও পরীক্ষা করা উচিত।”
কর্মচারী লিমা আক্তারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন অনিয়ম, রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি।
এ বিষয়ে গ্রন্থাগার শাখার কর্মচারী লিমা আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তার স্বামী ও কেয়ারটেকিং সেকশনের প্রধান মো. সাইফুল্লাহ বলেন, “আমি আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করি। নিয়োগ বা পদোন্নয়নে ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের অভিযোগ সঠিক নয়। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো অনিয়ম পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।”
দুদকের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ–পদোন্নয়ন নিয়ে অভিযোগ পেলে তা আমরা যাচাই করি। প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হবে।”
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “নিয়োগ ও পদোন্নয়নের নীতিমালা লঙ্ঘিত হলে তদন্তের আওতায় আনা হবে। অভিযোগ পেলে ইউজিসির টিম নথি পরীক্ষা করবে।”
পবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। কেউ অভিযোগ দিলে তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পবিপ্রবিতে বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ ও পদোন্নয়ন ঘিরে বিতর্ক দেখা দিলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর তদন্ত বা ব্যবস্থা না থাকায় সংশ্লিষ্ট অনিয়মকারীরা আরও প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। তাদের মতে, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অনিয়ম এসব পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।
তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ইউজিসি এবং দুদকের কাছে স্বচ্ছ তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


