মোঃ রুবাইয়াত হকঃ পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীরের পাশেই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্য। আইন অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একশো মিটার দূরত্বের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে এর কোনো কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে একাধিক টং দোকান। যেখানে দীর্ঘদিন ধরে পান, সিগারেটসহ বিভিন্ন তামাকজাত পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এসব দোকানে দিনভর চা-সিগারেটের আড্ডায় মেতে থাকছেন পথচারী, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। আর এখান থেকেই সহজে সিগারেট কিনতে পারছে শিক্ষার্থীরাও। একই চিত্র দেখা গেছে শহরের কালেক্টরেট স্কুলের বিপরীত পাশেও, যেখানে চায়ের দোকান ও খাবারের দোকানগুলোতে নিয়মিত সিগারেট বিক্রি হচ্ছে।
শহরের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের দক্ষিণ পাশে মসজিদের গেট পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে থাকা দোকান গুলোতেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে সিগারেট সহ অন্যান্য তামাকজাত পণ্য। এতে শিক্ষার্থীদের সামনে ধূমপানের সহজলভ্যতা তৈরি হচ্ছে এবং অল্প বয়সেই তারা ধূমপানের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।
প্রচলিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একশো মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা দন্ডনীয় অপরাধ এবং এর জন্য জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু নিয়মিত নজরদারি ও আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় আইনটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলেও তা নিয়মিত না হওয়ায় দোকানিরা পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে তরুণ সংগঠক জহিরুল ইসলাম বলেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, নিয়মিত মনিটরিং, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশকে তামাকমুক্ত রাখতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বে।’
শিক্ষার্থীর অভিভাবক রুবেল হোসেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, কারণ এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নৈতিক বিকাশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দিন জানান, পূর্বে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এসব অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হলেও কিছুদিন পরই পুনরায় গড়ে ওঠে। প্রশাসনের ধারাবাহিক তদারকি না থাকায় এই প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) তারেক হাওলাদার বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে খুব শিগগিরই এসব অবৈধ দোকান উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’