দুমকি প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর পায়রা সেতুতে (লেবুখালী সেতু) টাকার বিনিময়ে ওভারলোড মালবাহী ট্রাক পারাপারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওজন স্কেলে অতিরিক্ত মাল ধরা পড়লেও নির্ধারিত টোলের বাইরে বাড়তি অর্থ আদায় করে ট্রাকগুলো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পটুয়াখালীগামী একটি ওভারলোড ট্রাক থেকে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৪শ টাকা আদায়ের পর পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পায়রা সেতুর উত্তর প্রান্তের ওজন স্কেলে ওভারলোড যানবাহন আটক করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে একটি টোকেন দেওয়া হয়। সেই টোকেন দেখিয়ে ট্রাকগুলো টোল প্লাজা পার হয়ে নির্বিঘ্নে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে চলে যায়। একই পদ্ধতিতে দক্ষিণ থেকে উত্তরাঞ্চলগামী ওভারলোড যানবাহন থেকেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সময় স্থানীয়রা কুষ্টিয়া ট-১১-১৪৯৩ নম্বরের একটি ওভারলোড ট্রাক আটক করে ওজন স্কেলে তোলেন। এতে দেখা যায়, ট্রাকটির ধারণক্ষমতা ২২ টন হলেও এতে প্রায় ২৮ টন মাল বোঝাই করা হয়েছে। অতিরিক্ত ৬ টনের জন্য নির্ধারিত টোলের বাইরে বাড়তি অর্থ আদায় করে টোকেন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
আটক হওয়া ট্রাকের চালক ইব্রাহীম মিয়া বলেন, “অতিরিক্ত ৬ টনের জন্য আমাকে ৩ হাজার ৪শ টাকা দিতে হয়েছে। পায়রা সেতুতে এভাবে ওভারলোড ট্রাক পারাপার এখন নিয়মিত ঘটনা।”
এ বিষয়ে পায়রা সেতুর ওজন স্কেলের দায়িত্বে থাকা টোলকর্মী মামুন অতিরিক্ত ওজন থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল হোসেন বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই শুনি, কিন্তু সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের অভাবে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়। ট্রাক নম্বরসহ নির্ভরযোগ্য তথ্য দিলে আজই বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় সেতুতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সেতুর নিরাপত্তা ও সড়ক অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।