বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও বিশিষ্ট টকশো ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেছেন, “আওয়ামী লীগের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করা হয়েছিল। আমরা তখন থেকেই এর প্রতিবাদ করেছি। আমরা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করতে চাই। জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিএনপির এক হেভিওয়েট নেতা বিএনপির বিপক্ষে নিউজ করলে মিডিয়া হাউস পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তার সকল রাজনৈতিক পদ স্থগিত করা হয়েছে।”
শনিবার রাতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার মো. তৌহিদুর রহমান মিলনায়তনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এবিএম মোশাররফ।
প্রেসক্লাব সভাপতি মো. নেছার উদ্দিন আহমেদ টিপুর সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক অমল মুখার্জির সঞ্চালনায় মোশাররফ আরও বলেন, “২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সব মত ও দলের মানুষকে নিয়ে কলাপাড়ায় সম্প্রীতির উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।”
এবিএম মোশাররফ আরও বলেন, “পিআর পদ্ধতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ সংবিধানের ১৬৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। এজন্য জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলো সংবিধান সংশোধনের দাবি তুলছে। আর নির্বাচিত সংসদ ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হতে হবে।”
তিনি বলেন, “কলাপাড়া দেশের সম্ভাবনাময় একটি উপজেলা। এখানে রয়েছে একাধিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটি, পায়রা সমুদ্রবন্দর, কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র এবং সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশন। কলাপাড়ার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সকলের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তিনি সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।”
কলাপাড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার, পৌর বিএনপি সভাপতি গাজী মো. ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহিদ নান্নু মুন্সী, সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর, শামসুল আলম, মেজবাহ উদ্দিন মাননু, এস. এম. মোশাররফ হোসেন মিন্টু, গোফরান বিশ্বাস পলাশ, নুরুল কবির ঝুনু, জসিম পারভেজ, মিলন কর্মকার রাজু প্রমুখ।